নিজস্ব সংবাদদাতা শিলিগুড়ি ১ অক্টোবর: বিধান রোডে ফের যত্রতত্র পার্কিং!
তাহলে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মেলা গ্রাউন্ডে তৈরি পার্কিংয়ের উদ্দেশ্য কী?
শিলিগুড়ি শহরের যানজট সমস্যা কমাতে একের পর এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিধান মার্কেট, বিধান রোড এবং খুদিরাম পল্লি এলাকায় যানজট ও পার্কিং সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মেলা গ্রাউন্ডে পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্যই ছিল রাস্তার উপর যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং কমানো এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ আরও স্বচ্ছন্দ করা।
কিন্তু বাস্তবে কি সেই লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে?
অভিযোগ, বিধান রোডে ফের শুরু হয়েছে যত্রতত্র স্কুটি, মোটরবাইক, টোটো এবং চারচাকার গাড়ি রাখা। শুধু বিধান রোড নয়, ঋষি অরবিন্দ রোড, রাজা রামমোহন রায় রোড, বিমল সিনহা সরণি-সহ বিধান রোডের সাথে সংযোগকারী রাস্তাতেও রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকছে একের পর এক যানবাহন, এমনকি রাস্তার ওপরেও।
বিধান রোডের দুই পাশে বিভিন্ন দোকানের সামনেও দেখা যাচ্ছে মোটরবাইক ও স্কুটি। ক্রেতাদের পাশাপাশি দোকানদারদের গাড়িও রাস্তার ধারে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
আর এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন—যদি রাস্তার উপরেই ফের গাড়ি রাখা হয়, তাহলে এতদিনের পরিকল্পনা করে মেলা গ্রাউন্ডে পার্কিং ব্যবস্থা তৈরি করার উদ্দেশ্য কী?
কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মেলা গ্রাউন্ডে প্রায় ৮০০টি যানবাহন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পার্কিং ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। সেখানে পেভার ব্লক, CCTV এবং আধুনিক প্রবেশ-বেরোনোর ব্যবস্থার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ উঠছে, বিধান রোডের ফুটপাতের অবস্থাও বদলায়নি। ফুটপাতের বিভিন্ন অংশে চায়ের দোকান, ফলের দোকান, ফাস্টফুডের দোকান, পান-সিগারেটের দোকানসহ বিভিন্ন অস্থায়ী ব্যবসা বসে যাওয়ায় পথচারীদের রাস্তার উপর দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে।
ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি হওয়ার পরেও যদি বিধান রোডে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে এবং ফুটপাত দখল হয়ে থাকে, তাহলে যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান কোথায়?
রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এই পার্কিং ব্যবস্থার উদ্যোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এমনকি ফুটপাত, রাস্তা ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করার বিষয়েও তিনি সম্প্রতি বক্তব্য রেখেছেন।
তাই এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—বিধান রোডের বর্তমান পরিস্থিতির কথা কি শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের নজরে এসেছে?
নাকি আবারও অভিযান চালিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে?
উত্তর দেবে প্রশাসন। তবে প্রশ্ন থাকছেই—পার্কিংয়ের জন্য জায়গা তৈরি হয়েও যদি রাস্তার উপরেই গাড়ি দাঁড়ায়, তাহলে এই পার্কিং ব্যবস্থার প্রকৃত সুফল পাচ্ছেন কারা?
