প্রসেনজিৎ রাহা, শিলিগুড়ি ২৯ অক্টোবর:শিলিগুড়িতে কলেজ ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু! প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে একাধিক অভিযোগ, বিচারের দাবিতে থানার দ্বারস্থ পরিবার।
সকালে ঘুম থেকে উঠে পুজো দিলেন, বাজারেও গেলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কথাবার্তাও বললেন। কিন্তু তারপরেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। নিজের ঘরেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হল এক কলেজ ছাত্রীর। আর এই মৃত্যুকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। পরিবারের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন ওই ছাত্রী। ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং বিচারের দাবিতে ভক্তিনগর থানার অধীন আশিঘর পুলিশ ফাঁড়ির দ্বারস্থ হয়েছেন যুবতীর পরিবারের সদস্যরা।
মৃত ছাত্রীর নাম প্রিয়া মণ্ডল। তাঁর মা দীপালি মণ্ডলের দায়ের করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রায় দু’বছর ধরে কৌশভ সরকারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল প্রিয়ার। অভিযোগ, সেই সময় বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় দেড় মাস আগে অন্য এক তরুণীর সঙ্গে কৌশভের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানতে পারেন প্রিয়া। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করায় তাঁকে দুর্ব্যবহার, গালিগালাজ এবং মারধরের মুখে পড়তে হয় বলেই অভিযোগ করেছেন তাঁর মা।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর কৌশভ সরকারের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন প্রিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সেই সময় কৌশভ সরকার এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য প্রিয়ার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন ও তাঁকে অপমান করেন বলে অভিযোগ। এমনকী, প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টিও জানানো হয় বলে দাবি পরিবারের।
এরপর গত ২৮ অক্টোবর সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক সময় কাটানোর পর নিজের ঘরে চলে যান প্রিয়া। কিছুক্ষণ পরেই তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। প্রিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার ও পরিচিত মহলে।
মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে আশিঘর পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দীপালি মণ্ডল। এখন পরিবারের একটাই দাবি—মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আসুক এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করুক পুলিশ।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলি এখনও তদন্তসাপেক্ষ। এই ঘটনায় পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
প্রিয়ার মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল? সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেতে এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে পরিবার ও স্থানীয় মানুষ।
