নিজস্ব সংবাদদাতা শিলিগুড়ি ২৪ সেপ্টেম্বর:রাস্তায় অসহায় বৃদ্ধ বাবা-মা।
অভিযোগ নিজের সন্তানদের বিরুদ্ধেই!
নবদ্বীপে দম্পতিকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠাল পুলিশ।
বৃদ্ধ বয়সে যাঁদের সন্তানদের হাত ধরে পথ চলার কথা, সেই বয়সেই যদি সেই বাবা-মাকেই আশ্রয় নিতে হয় রাস্তার ধারে কিংবা বাসস্ট্যান্ডে—তাহলে তার চেয়ে বেদনাদায়ক ছবি আর কী হতে পারে!
নদিয়ার নবদ্বীপে এমনই এক ঘটনা সামনে এসেছে, যা নাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় মানুষদের।
অভিযোগ, বৃদ্ধ ভজন সরকার এবং তাঁর স্ত্রী অনিমা সরকারকে নিজেদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাসস্ট্যান্ডে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। প্রায় ১ মাস ধরে নবদ্বীপ ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ত্রিপল খাটিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি।
অভিযোগ আরও গুরুতর। দম্পতির দুই ছেলে রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, টাকা-পয়সা, জমি-বাড়ি-সহ তাঁদের সম্পত্তির বড় অংশ সন্তানদের দখলে চলে যাওয়ার পরই তাঁদের অসহায় অবস্থায় রাস্তায় থাকতে হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃদ্ধ ভজন সরকার শারীরিকভাবেও অসুস্থ। গলায় জটিল অস্ত্রোপচারের পর তিনি কথা বলার ক্ষমতা হারিয়েছেন এবং নলের মাধ্যমে তরল খাবার গ্রহণ করেন বলে জানা গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাটাই যেখানে কঠিন, সেখানে বাসস্ট্যান্ডে দিন কাটানো কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল ওই দম্পতির জন্য।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে স্থানীয় সমাজসেবীর নজরে আসার পর। ওই বৃদ্ধ দম্পতির অসহায় অবস্থার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি পৌঁছে যায় প্রশাসনের নজরে। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে উদ্ধার করে আপাতত তাঁদের পরিবারের কাছেই থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। সূত্রের খবর, তাঁদের বড় ছেলে ভরত সরকার প্রতিমা তৈরির কাজ করেন এবং তাঁর বাড়িতেই আপাতত থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট কৌশিক বসাকও জানান, ওই বৃদ্ধ দম্পতির পাশে আইন এবং পুলিশ সবসময় থাকবে।
তবে এই ঘটনায় যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি সামনে আসছে, তা হল—জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যে বাবা-মা সন্তানদের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দেন, তাঁদেরই যদি শেষ পর্যন্ত আশ্রয়ের জন্য অন্যের দরজায় যেতে হয়, তাহলে সমাজ হিসেবে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি?
নবদ্বীপের এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের অভিযোগ নয়, বরং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের নিরাপত্তা, অধিকার এবং পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে আরও একবার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিল।
এখন নজর থাকবে, অভিযোগগুলির তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে এবং ওই বৃদ্ধ দম্পতির সম্পত্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি আইনি পথে কীভাবে সমাধান হয়।
