নিজস্ব সংবাদদাতা শিলিগুড়ি ২৯ সেপ্টেম্বর: শিলিগুড়িতে ফের বড়সড় মাদকবিরোধী অভিযান।
স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ এবং নিউ জলপাইগুড়ি থানার অ্যান্টি ক্রাইম উইং-এর যৌথ অভিযানে কাওয়াখালী পোড়াঝাড় এলাকা থেকে উদ্ধার হল প্রায় ৭০০ গ্রাম ব্রাউন সুগার।
এই ঘটনায় মালদার দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম সানাউল শেখ এবং মোহাম্মদ রশিদুল হক।
নিউ জলপাইগুড়ি থানার
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে মাদক পাচারের খবর পাওয়ার পর সোমবার রাত আনুমানিক নটা নাগাদ কাওয়াখালী পোড়াঝাড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
সেই সময় এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা দুই যুবককে আটক করে তল্লাশি চালান পুলিশকর্মীরা। তল্লাশির সময় তাদের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার।
পুলিশের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা।
তদন্তে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশের প্রাথমিকভাবে অনুমান, মালদা থেকে ওই মাদক নিয়ে শিলিগুড়িতে পৌঁছেছিল ধৃত দুই যুবক। শিলিগুড়িতে মাদকটি কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিংবা এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে—তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ।
পুলিশের সন্দেহ, ধৃতরা মূল মাদক কারবারিদের হয়ে ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করছিল। অর্থাৎ মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের কাজ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিশের।
অভিযানে ধৃতদের কাছ থেকে কিছু নগদ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
নিউ জলপাইগুড়ি থানার আইসি এবং শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের এসিপি পদমর্যাদার এক আধিকারিকের উপস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া মাদকসহ দুই অভিযুক্তকে এনডিপিএস আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ধৃত দুই যুবককে মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হবে।
এখন পুলিশের নজর আরও বড় প্রশ্নের দিকে—মালদা থেকে শিলিগুড়িতে এই মাদক কার নির্দেশে আনা হয়েছিল, কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল এবং এই মাদকচক্রের পিছনে আর কারা রয়েছে?
তদন্ত এগোলে সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
