নিজস্ব সংবাদদাতা শিলিগুড়ি ৩ অক্টোবর:গরু চোর সন্দেহে গণধোলাই।দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন।ঘটনাস্থলেই মৃত্যু একজনের।উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হল অপর একজনের।বর্তমানে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুলিশের জালে তিন অভিযুক্ত।আজ সকালে শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন মাটিগাড়া থানা এলাকা থেকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর সামনে আসছে। বেশ কিছুদিন ধরেই শিলিগুড়ি শহর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় রাতের অন্ধকারে রাস্তা থেকে গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছিল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। কখনো নকশালবাড়িতে, কখনো বাগডোগরা, কখনো মাটিগাড়ায়, আবার কখনো শিলিগুড়িতে।
রাতের অন্ধকারে দামি গাড়ি নিয়ে এসে সেই গাড়িতেই গবাদিপশু চুরি করে নিয়ে পালাচ্ছিল দুষ্কৃতীরা। একের পর এক ঘটনায় শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ও দুষ্কৃতিদের ধরতে হিমশিম খাচ্ছিল। এবার আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার চরম নিদর্শন দেখল শিলিগুড়ির তারাবাড়ি এলাকা। গরু চোর সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে ব্যাপক মারধর করে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো ভয়ানক অভিযোগ উঠল উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিযুক্তদের গাড়ি দুটি। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাগডোগরা এবং মাটিগাড়া থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে
মাটিগাড়া থানা এলাকায় গরু চোর সন্দেহে আসা ব্যক্তিদের ব্যবহৃত গাড়িগুলিতে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে গণধোলাই এবং খুনের ঘটনাটি ঘটেছে বাগডোগরা থানা এলাকায়।
ঘটনাটির সূত্রপাত শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থানার অন্তর্গত তারাবাড়ি এলাকার বালাসন নদীর ধারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোররাতে ওই এলাকায় একটি সন্দেহভাজন গাড়িকে ঘুরতে দেখেন বাসিন্দারা। ইদানীং শিলিগুড়ি শহর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় গবাদি পশু চুরির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন গ্রামবাসীরা। গাড়িটি দেখতেই চোর সন্দেহে শোরগোল শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে সেখানে বহু মানুষ জড়ো হয়ে যান।
উত্তেজিত জনতা প্রথমেই গাড়িটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং লাঠিসোটা নিয়ে সেটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। গাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের ওপর চড়াও হয় উন্মত্ত জনতা। অভিযোগ, গণপিটুনি দেওয়ার পর এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে মারধর করে পিটিয়ে খুন করা হয়। এই ভয়ঙ্কর হামলায় আরও এক ব্যক্তি গুরুতর জখম হয়। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
বাকি অভিযুক্তরা সুযোগ বুঝে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় তিনজন।
বর্তমানে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে।
আজ ভোরের আলো ফুটতেই বালাসন নদীর তীরে ভিড় জমায় শয়ে শয়ে মানুষ। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে, আইন হাতে তুলে নিয়ে এই ধরণের বর্বরোচিত হামলা ও খুনের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পর অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশের একাধিক দল তল্লাশি অভিযান শুরু করে। আর সেই অভিযানেই ধরা পড়ে তিনজনই। তাদের অবস্থা আশঙ্কা জনক থাকায় তিন জনকেই ভর্তি করা হয় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
চোর সন্দেহে অপরাধের শাস্তি কি এভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে দিতে হবে? এই নৃশংস ঘটনা আবারও সমাজের বিবেককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। তবে ইদানিং একের পর এক গরু চুরির ঘটনা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ জন্মচ্ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। এটি তারই বহিঃপ্রকাশ। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের মাটিগাড়া থানার পুলিশ এবং বাগডোগরা থানার পুলিশ জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া দোষীদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।
অপরদিকে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের এসিপি পদমর্যাদার অফিসার অনির্বাণ মজুমদার জানিয়েছেন,
শাহেদ আখতার এর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে।
সাদ মোহাম্মদের মৃত্যু হয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের এসিপি পদমর্যাদার অফিসার অনির্বাণ মজুমদার আরো জানিয়েছেন, এই ঘটনায় হরিয়ানার বাসিন্দা আমির এবং আরিফ খান ও আক্রম খান বর্তমানে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
