Sunday, September 20, 2026
HomeBreakingনেপাল থেকে মেয়েরা চলে আসছে নিঃসন্তানদের কোল ভরাতে

নেপাল থেকে মেয়েরা চলে আসছে নিঃসন্তানদের কোল ভরাতে

নিজস্ব সংবাদদাতা শিলিগুড়ি ১৯ সেপ্টেম্বর:নেপাল থেকে ভারতে তরুণীদের আনা হচ্ছে? সন্তানহীন দম্পতিকে ঘিরে কথিত ‘গর্ভধারণের ব্যবসা’ নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

নেপাল থেকে তরুণীদের ভারতে এনে অর্থের বিনিময়ে সন্তান ধারণ করানো হচ্ছে—এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দৈনিক ভাস্করের সূত্র উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশ ও নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকাকে কেন্দ্র করে এমন একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সন্তানহীন দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া, নারীদের ব্যবস্থা করা এবং সন্তান জন্মের পর তাদের আবার নেপালে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো কাজের সঙ্গে একাধিক মধ্যস্থতাকারী যুক্ত রয়েছে।
দৈনিক ভাস্করের
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে নেপালের তরুণীদের ভারতে এনে বিয়ে না করেই কোনও পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে গর্ভবতী করা হচ্ছে। সন্তান জন্মের পর নির্দিষ্ট অর্থ দেওয়া হয় এবং এরপর ওই তরুণীকে নেপালে ফিরিয়ে দেওয়া হয়—এমন তথ্য সামনে এসেছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। IVF এবং surrogacy এক বিষয় নয়। IVF বা In Vitro Fertilisation হল চিকিৎসা-পদ্ধতি, যার মাধ্যমে শরীরের বাইরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর নিষেক ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। অন্যদিকে surrogacy-তে অন্য একজন নারী গর্ভধারণ করে সন্তান জন্ম দেন। ফলে কোনও নারীকে স্বাভাবিক যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে গর্ভবতী করিয়ে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ থাকলে সেটিকে সরাসরি IVF বলা ঠিক নয়।

ভারতে commercial surrogacy আইনত নিষিদ্ধ। ২০২১ সালের Surrogacy Regulation Act-এ commercial surrogacy বলতে অর্থ, পারিশ্রমিক, পুরস্কার বা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে surrogate motherhood-এর পরিষেবা দেওয়া বা নেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। একই আইনে commercial surrogacy পরিচালনা, তার জন্য দালাল বা intermediary ব্যবহার এবং এমন পরিষেবার বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে ভারতে assisted reproductive technology এবং বৈধ surrogacy-এর জন্য নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো রয়েছে। তাই কোনও নির্দিষ্ট ঘটনা সত্যিই বৈধ চিকিৎসা-প্রক্রিয়া, অবৈধ commercial surrogacy, নাকি মানবপাচার বা প্রতারণার ঘটনা—তা নির্ভর করবে তদন্তে পাওয়া তথ্যের উপর।

এই অভিযোগের সঙ্গে অতীতের ঘটনাগুলিরও কিছু মিল রয়েছে। কয়েক বছর আগে উত্তরপ্রদেশকে কেন্দ্র করে একটি alleged commercial surrogacy network-এর তদন্তে দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং নেপালের মধ্যে এজেন্টদের যোগাযোগের কথা উঠে এসেছিল। সেই তদন্তে দম্পতিদের এবং অর্থের প্রয়োজনে থাকা নারীদের আলাদা আলাদা এজেন্টের মাধ্যমে যুক্ত করার অভিযোগ করা হয়েছিল।

২০২৬ সালেও ভারতে assisted reproductive technology এবং surrogacy ব্যবস্থায় trafficking ঠেকানোর বিষয়টি আদালতের নজরে রয়েছে। আগস্ট ২০২৬-এর একটি মামলায় উত্তরপ্রদেশে ART ও surrogacy clinic-কে ঘিরে trafficking প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা এবং SOP তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা আদালতের নথিতে উঠে এসেছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—সীমান্তবর্তী এলাকায় যদি সত্যিই অর্থের বিনিময়ে নারীদের এনে গর্ভধারণ করানোর কোনও চক্র থেকে থাকে, তাহলে এর সঙ্গে কারা যুক্ত? কোথা থেকে আসছেন ওই নারীরা? কে তাদের ভারতে নিয়ে আসছে? কারা সন্তানহীন দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছে? এবং সন্তান জন্মের পর শিশু ও মায়ের আইনি পরিচয় কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে?

এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত। কারণ অভিযোগটি যেমন গুরুতর, তেমনই কোনও নারী বা কোনও সম্প্রদায়কে প্রমাণ ছাড়া এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করাও উচিত নয়।

নেপাল থেকে ভারতে নারীদের এনে অর্থের বিনিময়ে সন্তান ধারণ করানোর যে অভিযোগ দৈনিক ভাস্করে সামনে এসেছে, সেটি এখন তদন্ত ও সরকারি সংস্থার নজরে আসার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিযোগ সত্যি হলে এর সঙ্গে জড়িত মানবপাচার, শোষণ এবং অবৈধ প্রজনন ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন উঠবে। গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভারত নেপাল সীমান্তের পশ্চিমবঙ্গও কি এমনটা চলছে? সবদিকেই এখন নজর তদন্তকারীদের। বিউরো রিপোর্ট আমার বাংলা।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments