নিজস্ব সংবাদদাতা,শিলিগুড়ি ৩ ডিসেম্বর:রাস্তায় এক মহিলার গলায় চাকু চালিয়ে দিয়েছিল এক যুবক।
রক্তাক্ত অবস্থায় ওই মহিলা নিজেই ছুটে গিয়েছিল হাসপাতালে।
অন্ধকার রাস্তায় আচমকাই ওই মহিলার উপর হামলা চালানো হয়েছিল।
এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল শিলিগুড়িতে।
মাটিগাড়ায় ঐ মহিলার ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল মাটিগাড়া থানার পুলিশ।
স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে না পেরে রাগে মাসি শাশুড়ির ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হল জামাই।
অভিযুক্ত নুর আলমকে মঙ্গলবার মাটিগাড়া লেলিন কলোনি থেকে গ্রেফতার করে মাটিগাড়া থানার অ্যান্টি ক্রাইম উইং এর পুলিশ। গত বুধবার রাত ৮ টা নাগাদ মাটিগাড়ার রামকৃষ্ণ পাড়া এলাকার একটি অন্ধকার গলিতে মাটিগাড়া ভাঙাপুলের বাসিন্দা রঞ্জু খাতুন নামে এক মহিলার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় নুর। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। মাটিগাড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করানো হয় তাকে। কয়েকদিন ধরে সেখানেই চিকিৎসাধীন রঞ্জু। এদিকে এই ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সহ আহতের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ নুরের বিষয়ে জানতে পারে। তবে এই ঘটনা পারিবারিক অশান্তির জেরে ঘটানো হয়েছে বলেই পরিবর্তিতে তদন্তে উঠে আসে। রঞ্জুর দিদির মেয়ের সঙ্গে কয়েকমাস আগে বিয়ে হয়েছিল ফাঁসিদেওয়ার বাসিন্দা নুরের। তবে নুর আগে থেকেই বিবাহিত ছিল। ওই বধূ নুরকে ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে গেলে ফের কয়েক মাস আগে অপর একজনকে বিয়ে করেন নুর। তবে সেই স্ত্রীও বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে মাসি শাশুড়ির সঙ্গে ছবি দেখে মাসি শাশুড়িকে একপ্রকার জেরা শুরু করে নূর।
স্ত্রীকে না মেলায় রাগের বসে সেদিন রঞ্জুর ওপর হামলা চালায় অভিযুক্ত জামাই। অপরদিকে এই ঘটনায় তোলপাড় হয়ে যায় শহর শিলিগুড়ি। মহিলার উপর প্রাণঘাতী হামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সমস্ত তথ্য জোগাড় করে নুরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায় পুলিশ। নুর এতদিন গা ঢাকা দিয়েছিল। পুলিশ নুরের সমস্ত ঠিকানায় নজর রেখে ওত পেতে বসেছিল। মঙ্গলবার নিজের এক নিকট আত্মীয়ের লেলিন কলোনির বাড়িতে আসে নুর। সেখানেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে অভিযুক্তের সঙ্গে ঘটনার দিন থাকা আরেক যুবক জড়িত রয়েছে কিনা তা এখনও স্পট নয়। এছাড়াও হামলা চালানোয় ব্যবহৃত অস্ত্রটিও উদ্ধার হয়নি অভিযুক্তের কাছ থেকে। অভিযুক্তকে বুধবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন জানাবে পুলিশ।
