নিউজ ডেস্ক,শিলিগুড়ি ২৯ অক্টোবর:শিলিগুড়ি শেঠ শ্রীলাল মার্কেট এবং বিধান মার্কেটে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেত গতকাল।
আমার বাংলার হস্তক্ষেপ এবং বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির দ্রুত পদক্ষেপে এড়ানো গেল বড়সড়ো বিপদ।
হ্যাঁ, ঠিক এভাবেই সমাজের জন্য পাশে থাকবে আমার বাংলা। মানুষের জন্য মানুষের পাশে।
বুধবার রাত তখন আটটা।
ব্যস্ত বিধান মার্কেট এবং শেঠ শ্রীলাল মার্কেট।
দোকানে দোকানে ক্রেতাদের ভিড়।
বেশ কিছু দোকানের সামনে রাখা স্কুটি মোটরবাইক। এক চিলতে পায়ে হাঁটার পথ নেই।
বিধান মার্কেটের প্রতিটি রাস্তায় তখন ক্রেতাদের যাতায়াত। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ স্কুটিতে,কেউ বাইকে, কেউ রিকশায় তো কেউ টোটো তে।
ঠিক সেই সময় আমার বাংলার নজরে পড়লো এক বিপদজনক দৃশ্য। শেঠ শ্রী লাল মার্কেটের একটি গলিতে একটি বিপদজনক কঙ্কালসার ভ্যানে নজরে এলো জ্বলন্ত উনুন এবং তার ওপর কড়াই এ ফুটন্ত সরিষার তেল। ভাজা হচ্ছিল ডালের বড়া।
যে ভ্যানটির ওপরে কয়লার উনুনে একটি বড় কড়াইয়ে সরিষার তেলে ওই বড়া ভাজা হচ্ছিল সেই ভ্যানটির পরিস্থিতি করুন ছিল। যেকোনো সময় ওই ঠেলা ভ্যানটি ভেঙে পড়ার মতন পরিস্থিতি। অর্থ লোভের আশায় বিপদজনক ওই ভ্যানের উপরেই ব্যস্ততম শেঠ শ্রী লাল মার্কেটের গলিতে ভিড়ের মধ্যে ভাজা হচ্ছিল ডালের পকোড়া। আমার বাংলার চোখে ওই দৃশ্য পড়তেই ঐ ব্যবসায়ীকে ব্যস্ততম ওই পথ থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করে আমার বাংলার এডমিন এডিটর প্রসেনজিৎ রাহা। কারণ যেকোনো সময়ে ওই ভ্যানটি যদি ভেঙে পড়ে বা কোন গাড়ির ধাক্কা যদি ওই ভ্যানে লাগে তাহলে ফুটন্ত সরিষার তেল পথচারীদের গায়ে পড়ে বড়সড় বিপদ ঘটতে পারে। কিন্তু আমার বাংলার এডমিন এডিটর প্রসেনজিৎ রাহার কথাকে আমল দিতে রাজি হচ্ছিলেন না ওই ব্যবসায়ী। বেশ দেমাক দেখিয়েই ব্যস্ততম পথেই ভাঙাচোরা ওই ঠ্যালা ভ্যানে কয়লার উনুনে কড়াই বসিয়ে পকোড়া ভেজে যাচ্ছিলেন। বারবার বলার পর শেঠ শ্রীলাল মার্কেট ত্যাগ করে ওই ব্যবসায়ী। কিন্তু অবাক করা কাণ্ড, এবার সে চলে আসে বিধান মার্কেটে ঠিক যেখানে রথ হয় তার সামনে বিধান মার্কেটের প্রধান সড়কে। সেই সড়ক দিয়ে অনবরত ছুটছে টোটো, স্কুটি ,মটর বাইক,পাশাপাশি পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন শতাধিক মানুষ।
আবার বিপদজনক অবস্থায় থাকা ওই ভ্যান দাঁড় করিয়ে উনুনে কড়াই চাপিয়ে সর্ষের তেলে ডালের বড়া ভেজেই যাচ্ছিলেন ওই ব্যবসায়ী।
এরপর আমার বাংলার এডমিন এডিটর প্রসেনজিৎ রাহা বিষয়টি গোচরে আনেন বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের। আমার বাংলার কাছ থেকে তথ্য পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা। ওই ভাঙাচোরা ঠ্যালা ভ্যানের দৃশ্য দেখে চক্ষু চড়ক গাছ ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের। দ্রুত ওই পকোড়া ব্যবসায়ীকে জনবহুল বিধান মার্কেট ছাড়ার অনুরোধ করেন ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা। ভাবতে পারছেন, ব্যস্ততম বিধান মার্কেটের ভেতরে কয়লার উনুন জ্বালিয়ে ভাঙাচোরা ভ্যানে কড়াই ভর্তি ফুটন্ত সরিষার তেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন এই পকোড়ায়ালা। বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের নির্দেশে অবশেষে বিধান মার্কেট ছাড়ে সে। বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা ওই ব্যবসায়ীকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, উনুন নিয়ে ফুটন্ত সর্ষের তেল নিয়ে আগামীতে যেন ব্যস্ততম বিধান মার্কেটে তাকে দেখা না যায়।
আমার বাংলার এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা এবং পথচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে বিধান মার্কেটে এই ব্যক্তি বিপদজনক ঠ্যালা ভ্যানটিতে কয়লার উনুন বসিয়ে এক কড়াই ফুটন্ত সর্ষের তেলে বড়া ভাজতে ভাজতে ঘুরে বেড়াত। অবশেষে সেই ছবি বদলে দিল আমার বাংলা এবং ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা।। কিন্তু এই সমস্ত বিষয়ে প্রশাসনের বড় ভূমিকা নেওয়া উচিত। কারণ ব্যস্ততম বিধান মার্কেটে ফুটন্ত সরিষার তেল যদি পথচারীদের গায়ে কখনো পড়ে যায় তখন কিছু বলার ভাষা থাকবে না, কেবলমাত্র দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া। আমরা চাই সাধারণ মানুষ সচেতন হোক, আর ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা নজর রাখুক যাতে আগামীতে এমন কর্মকান্ড শিলিগুড়ির শেঠ শ্রীলাল মার্কেট এবং বিধান মার্কেটে আর না হয়।
