নিজস্ব সংবাদদাতা শিলিগুড়ি ২৯ অক্টোবর:শিলিগুড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ!
সোনার ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল চার দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে।
দুটি মোটরবাইকে চেপে এসে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হলো প্রায় ২০০ গ্রাম সোনার অলংকার এবং নগদ প্রায় দুই লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ খোয়ানোর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ভক্তিনগর থানার অধীন আশিঘর আউটপোস্টের অন্তর্গত ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চানন রোডে। বুধবার রাত সাড়ে নটা নাগাদ এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে।
প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও দোকান বন্ধ করে স্কুটিতে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন শান্তিনগরের সোনার ব্যবসায়ী উত্তম সরকার। অভিযোগ, বাড়ির গলিতে ঢোকার মুখেই দুটি মোটরবাইকে করে চার যুবক তাঁর পথ আটকায়। এরপর দুই দুষ্কৃতী মোটরবাইক থেকে নেমে তাঁর কাছে থাকা সোনার অলংকার এবং নগদ টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
কিন্তু ব্যাগ ছিনতাই করে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই স্কুটি নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করেন উত্তম সরকার। আর তখনই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গুলির বিকট আওয়াজ এবং ব্যবসায়ীর চিৎকারে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে তার আগেই দুটি মোটরবাইকে চেপে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় চার দুষ্কৃতী।
উত্তম সরকারের দাবি, তাঁর ব্যাগে প্রায় ২০০ গ্রাম সোনার অলংকার এবং নগদ দুই লক্ষ টাকা ছিল। দুষ্কৃতীরা ইস্টার্ন বাইপাস হয়ে জলেশ্বরী বাজারের দিকে পালিয়ে যায় বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ওই ব্যবসায়ীর বক্তব্য, শান্তিনগরের দোকানে রাতে সোনার অলংকার ও নগদ টাকা রেখে যাওয়া নিরাপদ মনে না হওয়ায় প্রতিদিনই সেগুলি বাড়িতে নিয়ে ফিরতেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, দুষ্কৃতীরা হয়তো বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশ। এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুষ্কৃতীরা মুখে কাপড় বাঁধেনি, এমনকি হেলমেটও পরেনি।
জনবহুল পঞ্চানন রোডে এভাবে গুলি চালিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত? কীভাবে তারা পালিয়ে গেল? উদ্ধার হবে কি খোয়া যাওয়া সোনা ও নগদ টাকা? এখন সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে শিলিগুড়ি। গোটা ঘটনার তদন্তে আসিঘর ফাঁড়ির পুলিশ।
