নিজস্ব সংবাদদাতা শিলিগুড়ি ২১ সেপ্টেম্বর:অবহেলায় পথেই প্রাণ যাচ্ছে পথ কুকুরদের, সরকারি উদ্যোগের দাবি পশুপ্রেমীদের।
সরকার বদলেছে, ক্ষমতায় এসেছে নতুন নতুন রাজনৈতিক দল। কিন্তু পথ কুকুরদের সমস্যা কি আদৌ বদলেছে? অভিযোগ, কেন্দ্র কিংবা রাজ্য—যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, পথ কুকুরদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব আজও রয়েছে। আর তারই জেরে একদিকে যেমন রাস্তায় বেড়ে চলেছে পথ কুকুরের সংখ্যা, অন্যদিকে তেমনই বাড়ছে কুকুরের কামড়, অসুস্থতা এবং পথ দুর্ঘটনায় কুকুরের মৃত্যুর ঘটনা।
শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন অলিগলি থেকে শুরু করে রাজ্যের নানা প্রান্তে প্রতিদিন অসংখ্য পথ কুকুরের দেখা মেলে। অনেক পশুপ্রেমী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিজেদের উদ্যোগে তাদের খাবার দেওয়া, চিকিৎসা, ভ্যাকসিনেশন এবং স্টেরিলাইজেশনের মতো কাজ করে চলেছেন। কিন্তু এত বড় একটি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারি উদ্যোগ আরও বেশি প্রয়োজন বলেই দাবি পশুপ্রেমীদের।
বিশেষ করে পথ কুকুরের জন্ম নিয়ন্ত্রণে স্টেরিলাইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সময়মতো র্যাবিসসহ প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেওয়া গেলে কুকুরের মধ্যে রোগের বিস্তার কমানো সম্ভব। একইসঙ্গে মানুষের মধ্যেও কুকুরের কামড় নিয়ে আতঙ্ক অনেকটাই কমতে পারে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে সরকারি কর্মসূচি না থাকায় অনেক এলাকাতেই এই পরিষেবা নিয়মিতভাবে পৌঁছায় না বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, কুকুরের কামড়ের ঘটনা ঘটলে অনেক সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ মানুষ কুকুরকে পিটিয়ে হত্যা করার মতো ঘটনাও ঘটছে। কখনো কখনো কুকুরকে বিষ খাইয়ে পর্যন্ত মারা হয়েছে। আবার প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ির চাকায় চাপা পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে বহু পথ কুকুর। পশুপ্রেমীদের বক্তব্য, এই ঘটনাগুলির পেছনে শুধু মানুষের নিষ্ঠুরতা নয়, রয়েছে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনাও।
শিলিগুড়ির একটি পশুপ্রেমী সংগঠনের কর্ণধার সমাজসেবী প্রিয়া রুদ্র জানিয়েছেন, গত প্রায় সাত বছর ধরে তারা পথ কুকুরদের স্টেরিলাইজেশন, ভ্যাকসিনেশন এবং বিভিন্ন ধরনের পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। শহরের সচেতন মানুষ এবং নিজেদের উদ্যোগে তারা নিয়মিত স্টেরিলাইজেশন ক্যাম্পও চালাচ্ছেন। পাশাপাশি কোথাও পথের ধারে পরিত্যক্ত বিদেশি জাতের কুকুরের খবর পেলেও তারা উদ্ধার করতে ছুটে যান।
তাদের দাবি, শুধু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে এই বিশাল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারেরও একটি সুসংগঠিত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নেওয়া দরকার। নির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে স্টেরিলাইজেশন, র্যাবিস ভ্যাকসিনেশন, চিকিৎসা এবং জনসচেতনতা—এই চারটি বিষয়কে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হলে পথ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সংঘাতও কমানো সম্ভব।
প্রিয়া রুদ্রদের মতো পশুপ্রেমীদের আশা, রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার পথ কুকুরদের নিয়ে এবার একটি কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করবে।
কারণ মানুষ হোক কিংবা পশু—প্রকৃতির ভারসাম্যে প্রত্যেক প্রাণীরই বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখাও সরকারেরই দায়িত্ব। ক্যামেরায় রূপায়ন হালদারের সঙ্গে প্রসেনজিৎ রাহার রিপোর্ট আমার বাংলা।
