প্রসেনজিৎ রাহা,শিলিগুড়ি ৮ ফেব্রুয়ারি:ভোটে জিতে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ীর মানুষের জন্য দুইবার যে উন্নয়নমুখী কর্মকান্ড করেছি, তাতে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ীকে ২৫ বছর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম।
কি করিনি ডাবগ্রাম ফুলবাড়ীর জন্য!!
কিন্তু মানুষ বুঝতে পারল না।
হ্যাঁ, এই আক্ষেপের সুর শনিবার বিকেলে শোনা গেল বর্তমান শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের গলায়।
শিলিগুড়ি মেয়র গৌতম দেব বলেন,আমি মারাত্মক আবেগী মানুষ। আমি মুখোশ পরে থাকতে পারিনা। কিছু মানুষের সাথে এক রকম ব্যবহার, আর অন্য মানুষদের সাথে অন্যরকম ব্যবহার করে চলতেও পারি না। এর জন্য আমাকে অনেক সময় বিপদে পড়তে হয়।
অনেকেই বলেন, আমি খুব রাগী, আমার মাথা চট করে গরম হয়ে যায়। কিন্তু বিশ্বাস করুন, সকাল থেকে রাত এত চাপ নিয়ে ফেলি, এত কাজ করি, এত ছুটে বেড়াই, মাঝে মাঝে ক্লান্ত বোধ করি, আর সেই কারণেই হয়তো মাঝে মাঝে মানুষের সাথে একটু অন্যরকম ব্যবহার করে ফেলি।
গৌতম দেব বলেন, আমি কখনো বসে থাকি না। মানুষ জানে, আমি শিলিগুড়ি শহর এবং ডাবগ্রাম ফুলবাড়ী এলাকায় কত হেঁটেছি, কত মানুষের বাড়িতে থেকেছি, সবাই জানে আমি প্রথম থেকে কিভাবে রাজনীতি করেছি, কত মার খেয়েছি।
শনিবার শিলিগুড়ির বিধান রোডের একটি হোটেলে শিলিগুড়ির ডিজিটাল নিউজ চ্যানেল কর্তৃপক্ষের সাথে একটি খোলামেলা আলোচনায় এমনটাই বললেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব।
তবে বৈঠক শুরুর আগে তিনি বলেন, আজকের এই খোলামেলা আলোচনা শিলিগুড়ির মেয়র হিসেবে তিনি করতে বসেননি, বসেছেন শিলিগুড়ির একজন প্রবীণ নাগরিক হিসেবে।
বৈঠকের শুরুতেই আমার বাংলার এডমিন এডিটর প্রসেনজিৎ রাহা, ওই খোলামেলা আলোচনায় শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব কে বলেই বসেন,আপনাকে তো পাওয়াই যায় না, আপনি এত ব্যস্ত থাকেন, আপনার একটা সাক্ষাৎকারের জন্য আপনাকে ফোন করতেও দুবার ভাবতে হয়,আগে শুনতে হয় আপনার মাথা ঠিকঠাক আছে তো? আপনি রেগে নেই তো!
পাশাপাশি শিলিগুড়ি শহরের যানজট সমস্যা নিয়ে মেয়রকে আমার বাংলার এডমিন এডিটর প্রসেনজিৎ রাহা বলেন, ভক্তিনগর থানা থেকে সেবক মোড়, শিলিগুড়ি কোট মোড় থেকে দার্জিলিং মোড়,মেয়র সাহেব আপনি একদিন আমাদের মত স্কুটি বা মোটরবাইকে চলে দেখুন কি পরিস্থিতি।
উত্তরে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, আপনারা যেমনটি ভাবেন আমি তেমন মনের মানুষ নই। আমি একটু আবেগি।
এটা ঠিক, আমি চট করে মেজাজ হারিয়ে ফেলি। এই কারণে আমি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে হাতে কুল লেখে ঘুরি।
মাঝে মাঝেই হাতের দিকে তাকাই।
মেয়র স্বীকার করেন অনেক দুর্বলতা রয়েছে, কখনো আর পাঁচ জন মানুষের মত তারও রাগ হয়। এর খেসারত তাকে দিতে হয়েছে বলেও বলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন,২০২১ এর নির্বাচনের আগে ডাব গ্রাম ফুলবাড়ী এলাকায় এমন একটি ঘটনা ঘটে গিয়েছিল, যে বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত টুইট করেছিলেন।
রাগ অভিমান ক্ষোভ দুঃখ ভুল ভ্রান্তি নিয়েই তো মানুষ, গৌতম দেব ও তার ব্যতিক্রম নয়।
ওই খোলামেলা আলোচনায় আমার বাংলার এডমিন এডিটর প্রসেনজিৎ রাহা গৌতম বাবুকে প্রশ্ন করেন, ভোটে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ীতেই দাঁড়াচ্ছেন?
নাকি শিলিগুড়িতে?
কাঁপা কাঁপা গলায় গৌতম দেব বলেন, ডাবগ্রাম ফুলবাড়ীর মানুষের জন্য অনেক কিছু করেছি। দুই বার বিধায়ক থেকে ওই এলাকাকে 25 বছর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম।
শাহু ডাংগীতে বৈদ্যুতিক চুল্লি, আসি ঘরে রেজিস্ট্রি অফিস,
আশিঘর আউটপোস্ট তৈরি, ইস্টার্ন বাইপাসকে সাজানো, ইস্টার্ন বাইপাসের ওই প্রান্তে ইস্টার্ন বাইপাসের সাথে কানেক্টিভিটির জন্য প্রচুর সেতু, আশিঘর মোড় থেকে বৈকন্ঠপুর এর দিকের রাস্তা, বাড়িভাষা মাদানী বাজারের রাস্তা, অম্বিকানগর জাবরাভিটা এলাকায় আন্ডার পাস,বেঙ্গল সাফারি, ডাম্পিং গ্রাউন্ডে দূষণ রুখতে জৈব সার তৈরি, আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনেজ সিস্টেম, কর্পোরেশনের অ্যাডেড এলাকাগুলিতে একের পর এক ব্রিজ তৈরি ,রাস্তাঘাট তৈরি, কিন্তু হেরে গেলাম।
আবেগের সুরে গৌতম দেব বললেন,ওই এলাকায় আর যাব না। ভালোবাসার আর কাজের প্রতিদান পাইনি।
এখন খুব কষ্ট হয়,এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি ওই এলাকার মানুষের কাছে শুনে।
এরপরেই গৌতম দেব বলেন, বয়স হচ্ছে, এটাই আমার শেষ নির্বাচনী লড়াই।
দল যদি চায় শিলিগুড়ি থেকেই লড়াই করব।
শিলিগুড়িকে অনেক কিছু দেওয়ার আছে। শিলিগুড়ি আমার প্রাণের শহর, জন্মস্থান। ডাবগ্রাম ফুলবাড়ীও আমার হৃদয়ে।
গৌতম বাবু বলেন, শিলিগুড়ি কে নিয়ে অনেক প্ল্যানিং আছে আমার। শহরে যানজট সমস্যা মেটানোর পাশাপাশি রাস্তাঘাট, পার্কিং, বাজার, নদী, শহরের আন্ডারগ্রাউন্ড ইলেকট্রিফিকেশন, স্টেডিয়াম, আরো অনেক কিছু।
সকাল থেকে রাত শুধু ভাবি, কিভাবে মানুষের মনে দাগ কেটে যাওয়া যায়। বয়স তো হচ্ছে,খুব বেশিদিন হয়তো আর পারব না। তাই এটাই শেষ নির্বাচনী লড়াই।
শনিবার শিলিগুড়ির বিধান রোডের ওই হোটেলের সভাকক্ষে গৌতম বাবুর সাথে খোলামেলা আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি জার্নালিস্ট ক্লাবের সম্পাদক অংশুমান চক্রবর্তী, শিলিগুড়ির প্রবীণ সাংবাদিক বৈজু আগরওয়াল, কিশোর সাহা, সূর্যশেখর গাঙ্গুলী, ভাস্কর বাগচী,রাকেশ সোমানি সহ বহু প্রবীণ এবং নবীন সাংবাদিকেরা। শনিবার বিকেলে শিলিগুড়ি মেয়রের ডাকে এই খোলামেলা আলোচনা বৈঠক মূলত ছিল শহরের সাংবাদিকদের থেকে শহরের এবং তার সম্পর্কে নানান প্রতিক্রিয়া জেনে নেওয়ার জন্যই।
