নিজস্ব সংবাদদাতা,শিলিগুড়ি ১৫ ডিসেম্বর:অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকলো শহর শিলিগুড়ি।
ঘটনাস্থল শিলিগুড়ি পৌর নিগমের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুকান্ত নগর।
অভিযোগ,বাড়িঘর থাকতেও
শীতের রাতে পথেই রাত কাটালো এক বিধবা মহিলাকে।
ওই মহিলার অভিযোগ,
স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই অশান্তি চলছিল স্বামীর প্রথম পক্ষের সন্তান এবং তার স্ত্রী এবং তার শাশুড়ির সাথে,সেই অশান্তি রবিবার তীব্র আকার ধারণ করে। ওই বিধবা মহিলার অভিযোগ, স্বামীর প্রথম পক্ষের সন্তান বনদীপ গুইন, তার স্ত্রী এবং প্রথম পক্ষের সন্তানের শাশুড়ি তাকে বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ায় শীতের রাতে পথেই রাত কাটাতে হলো ওই মহিলা পূর্ণিমা রায় গুইণকে।
গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহর শিলিগুড়িতে।
রবিবার রাতে সুকান্ত নগর কুণ্ডপুকুর মাঠের পাশে বিভিন্ন বাড়ির দরজায় দরজায় ঘুরেছেন ওই বিধবা মহিলা। সাহায্য চেয়েছিলেন অনেকের কাছেই। কিন্তু ঠাঁই পাননি কোথাও। এলাকাবাসীরা কি করবেন বুঝে পাচ্ছিলেন না।।
ঐ মহিলা জানান, এরপর স্থানীয় কিছু যুবক ওই মহিলাকে আশিঘড় আউটপোস্টে নিয়ে যান। সেখানে গোটা বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা করেছেন ওই মহিলা। তবে ওই মহিলা জানান, পুলিশ জানিয়েছে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুদিন সময় লাগবে। ওই মহিলার দাবি, নিরুপায় হয়ে তিনি রাতে কোথায় থাকবেন বুঝতে না পেরে সোজা চলে যান শিলিগুড়ি থানার মহিলা থানাতে। ওই মহিলা দাবি করেছেন, মহিলা থানা থেকে বলা হয় যেহেতু আশিঘর আউট পোস্টে অভিযোগ হয়েছে, বিষয়টি আশি ঘর আউটপোস্ট দেখবে।
পূর্ণিমা রায় গুইন বলেন, মহিলা থানা থেকে তাকে হাসপাতালে রাত কাটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর তিনি শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের প্রতীক্ষালয়েই রাত কাটান। সোমবার সকাল হতেই তিনি আবার চলে আসেন সুকান্ত নগরে তার স্বামীর ভিটের সামনে। সুকান্ত নগরে কুন্ডপুকুর মাঠের পাশে তার স্বামীর তিনতলা বাড়ি রয়েছে।
অভিযোগকারী ওই মহিলা পূর্ণিমা রায় গুইন বলেন, ২০২০ সালে প্রয়াত শ্যামাপদ গুইন তাকে আইনিভাবে বিবাহ করেন। এরপর থেকে তিনি স্বামীর বাড়িতেই থাকছিলেন। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু কয়েক মাস আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। ওই মহিলা বলেন, তার স্বামীর প্রথম পক্ষের সন্তান বনদ্বীপ গুইন, তার স্ত্রী এবং তার শাশুড়ি তার সাথে দুর্ব্যবহার করেছে।এই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর দুলাল দত্তের দরবারে বৈঠক ও হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগে, কিন্তু কোন সূরাহা মেলেনি। এই অশান্তি দিনকে দিন বাড়তে থাকে বলেই অভিযোগ প্রয়াত শ্যামাপদ গুইণের স্ত্রী পূর্ণিমা রায় গুইণের। তার অভিযোগ মাঝে তিনি তার আত্মীয়র বাড়িতে গিয়েছিলেন। গত ১০ তারিখ স্বামীর বাড়িতে ফিরে এসেছেন। এরপর থেকে অশান্তি আবার দানা বাঁধে। ওই মহিলার অভিযোগ, তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে তার স্বামীর প্রথম পক্ষের সন্তান, তার স্ত্রী এবং তার শাশুড়ি। এরপর গতকাল বনদীপ, তার স্ত্রী এবং তার শাশুড়ি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় বলেই অভিযোগ পূর্ণিমা রায় গুইনের। এরপর নাকি বাড়ি তালা মেরে দেওয়া হয়। এরপর থেকে পথেই ছিলেন তিনি। তার দাবি, আইন স্বীকৃত স্ত্রী হওয়ার পরেও তাকে নানান সমস্যার শিকার হতে হচ্ছে। রবিবার রাতে দরজায় দরজায় ঘুরতে হয়েছে একটু আশ্রয়ের জন্য। মহিলার অভিযোগ,শীতের রাতে এই মহিলাকে রাত কাটাতে হয়েছে তিন তলা বাড়ি থাকতেও পথেই। তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে সুরাহা চাইছেন। সাধারণ মানুষের সাহায্য চাইছেন। মহিলার এই পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন সুকান্ত নগরের স্থানীয় বাসিন্দারাও। তারাও বুঝে উঠতে পারছেন না কি করবেন। সোমবার সকাল থেকে ওই মহিলা সুকান্ত স্পোর্টিং ক্লাবের সামনের কুণ্ডপুকুর মাঠেই ধর্না দিয়েছেন। দাবি একটাই, থাকতে দিতে হবে স্বামীর ভিটে মাটিতেই। তার কেউ নেই, তিনি কোথায় যাবেন, এমনটাই দাবি তার।
অপরদিকে, পূর্ণিমা রায় গুইনের প্রয়াত স্বামী শ্যামা পদ গুইনের প্রথম পক্ষের পুত্র বনদীপ গুইণের অভিযোগ, গতকাল পূর্ণিমা রায় গুইন বাড়িতে অশান্তি করেন এবং তার সন্তানকে মারধর করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দারস্ত হয়েছেন। তার অভিযোগ, তার পরিবার নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই মহিলার কারণে।
বনদ্বীপ গুইন বলেন, ওই মহিলা পুলিশের প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন, আমিও পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি, আইন যা সিদ্ধান্ত নেবে আমি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেব।।
গোটা বিষয়টি জানেন স্থানীয় কাউন্সিলর দুলাল দত্ত, তিনি বলেন, এর আগে একবার বৈঠকে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু সেই সমস্যা মেটেনি। তবে ওই মহিলা গতকাল রাতে যে পথে রাত কাটিয়েছেন তা তার অজানা।
এখন এটাই দেখার শিলিগুড়ি সুকান্ত নগরের প্রয়াত শ্যামাপদ গুইন পরিবারের এই বিবাদ আখেরে কবে মেটে।
