Thursday, January 15, 2026
Homeরাজ্যছোট্ট শিশুকে আগলে রাখল পথ কুকুরের দল।

ছোট্ট শিশুকে আগলে রাখল পথ কুকুরের দল।

নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি ৫ ডিসেম্বর:একটা ছোট্ট শিশু, আর তাকে ঘিরে রয়েছে একদল কুকুর। প্রথমে দেখে আপনার হয়ত মনে হতে পারে যে খুবলে খাওয়ার জন্য ঘিরে রেখেছে ওই কুকুরেরা। কিন্তু আসলে তা নয়, ঘটনাটা একটু ভিন্ন।

শীতের রাতের শেষ প্রহর। নিস্তব্ধ রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে, তখন ফুটে উঠল এক অবাক করা দৃশ্য। ঘটনা জানাজানি হতেই হইহই পড়ে গেল গোটা এলাকায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপাতত ভাইরাল সেই দৃশ্য, যা দেখে হতভম্ব নেটিজেনরা। এমনটাও হতে পারে, ভাবতেই পারছেন না কেউ।

 

মাঝখানে একরত্তি একটা বাচ্চা। এই ধরুন দিন দুই কি তিনেক বয়স হবে বাচ্চাটার। এই বয়সের বাচ্চাদের মূলত আগলে রাখতে দেখা যায় সদ্য হওয়া মা বাবাকে। কিন্তু না, এই বাচ্চাটির কপালে তা জোটনি। বরং তার পরিবর্তে জুটেছে কিছু পালক পিতা মাতা। তবে এই মা বাবা কিন্তু কোনো মানুষ নয়, একদল কুকুর। ছবিটা দেখলে আপনারাও হয়ত তাই ই বলতেন।

 

পশ্চিমবঙ্গেই রাতের অন্ধকারে ঘটে গেল এমন এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা গোটা মনুষ্য জাতিকে নাড়িয়ে দেবে। আজকের সমাজে মানুষ কতটা নৃশংস, কতটা হিংস্র হয়ে উঠেছে, তার যেন জলজ্যান্ত উদাহরণ ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে ঠিক তেমনই মানুষ না হয়েও যে কুকুরের মধ্যে এতটা মনুষ্যত্ব রয়েছে, তার একটা ধারণা পাওয়া গেল চাক্ষুষ। ভিডিও টি দেখুন পুরোপুরি, তারপর আপনি নিজেও বলতে বাধ্য।

 

রাস্তায় ফেলে যাওয়া এক নবজাতককে সারারাত পাহারা দিয়ে রাখল একদল কুকুর। মানুষ নয়, মানবতা দেখালো তারা।

 

 

ভোরের আলো ফুটার আগে, শীতের রাতের শেষ প্রহরে নিস্তব্ধ সময়। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার নদীপারে অবস্থিত নবদ্বীপ শহরটায় সবাই তখন ঘুমিয়ে। ঠিক সেই সময়টাতে এক নবজাতককে পড়ে থাকতে দেখা গেল রেলওয়ে কর্মীদের কলোনির বাথরুমের বাইরের ঠান্ডা মাটিতে। আর তাকে ঘিরে আছে কয়েকটি কুকুর।

 

বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার ভোরবেলা নবদ্বীপের একটি বাড়ির টয়লেটের বাইরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এক নবজাতক শিশুকে পাহাড়া দিয়ে রক্ষা করেছে একদল বেওয়ারিশ কুকুর।

 

কুকুরগুলো একেবারে নিখুঁত একটি বৃত্ত তৈরি করে নবজাতকটিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল। ঘেউ ঘেউ নয়, ছোটাছুটি নয়, শুধু নীরব প্রহরা। এরপর স্থানীয় এক মহিলা ভোরে শিশুটিকে উদ্ধার করার পরই কুকুরগুলো ঘটনাস্থল ছাড়েন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা শুক্লা মণ্ডল সবার আগে কুকুরদের দিয়ে ঘেরা ওই শিশুটিকে দেখেন। তিনি বলেন, ‘ঘুম ভেঙে যা দেখেছিলাম, তাতে এখনও গা শিউরে ওঠে।’

 

তিনি বলেন, ‘কুকুরগুলো রাগী ছিল না। তারা যেন একধরনের সতর্কতায় দাঁড়িয়ে ছিল। যেন বুঝতে পারছিল এই বাচ্চাটা বাঁচার জন্য লড়ছে।’ আরেক বাসিন্দা সুভাষ পাল ভোরের একটু আগে শোনা ক্ষীণ কান্নার কথা স্মরণ করলেন।

তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম আশপাশের কোনো বাড়িতে অসুস্থ বাচ্চা আছে। কখনো কল্পনা করিনি বাইরে মাটিতে এক নবজাতক পড়ে আছে, আর তার চারপাশে কুকুরেরা পাহারা দিচ্ছে। তারা ঠিক প্রহরীর মতো আচরণ করছিল।’

শুক্লা দেবী জানান, অবশেষে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলে কুকুরগুলো নীরবে তাদের পাহারার বৃত্ত শিথিল করে। তিনি নিজের ওড়না দিয়ে শিশুটিকে জড়িয়ে ধরেন এবং প্রতিবেশীদের ডাকেন। তড়িঘড়ি করে শিশুটিকে প্রথমে মহেশগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে সেখান থেকে কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির শরীরে কোনো আঘাত নেই। মাথার রক্ত জন্মদাগ থেকেই হওয়া সম্ভব এবং সবকিছু দেখে মনে হয়েছে, জন্মের পরে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। পুলিশের ধারণা, কলোনিরই কেউ রাতের অন্ধকারে শিশুটিকে সেখানে রেখে গেছে।

নবদ্বীপ থানার পুলিশ ও চাইল্ড হেল্প কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে এবং শিশুটির দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। তবে প্রশাসনিক তৎপরতার আড়ালেও শহরের মানুষের চোখে লেগে আছে সেই রাতের দৃশ্য। প্রশিক্ষণহীন, অবহেলিত সেই কুকুরগুলো অদ্ভুত এক মানবিকতা দেখিয়েছে।

স্থানীয় এক রেলকর্মী বলেন, ‘এরা সেই কুকুর, যাদের নিয়ে আমরা অভিযোগ করি। কিন্তু তারা সেই মানুষের চেয়ে বেশি মানবতা দেখিয়েছে, যে এই শিশুটিকে ফেলে গেছে।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments